চীন দৃঢ়ভাবে উন্মুক্তকরণ সম্প্রসারণসহ একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের গাড়ি উৎপাদন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি সম্প্রতি সিএমজিকে জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তারা জাহাজের মাধ্যমে বিদেশে ২৫ হাজারের বেশি নতুন জ্বালানি গাড়ি পরিবহন করেছে। বিদেশে তাদের বিক্রির মোট পরিমাণ দুই লাখ ছয় হাজার একশ ছাড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১০ শতাংশ বেশি।

চীনা নতুন জ্বালানি পণ্যের বিদেশে এই বিক্রি শুধু বিশ্বকে নতুন ও সবুজ পণ্য সরবরাহ করছে না, বরং এটি বিদেশি বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণশক্তিতে পরিণত হয়েছে। চীনের সরকারি উপাত্ত অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের পণ্য বাণিজ্যের আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ ১০.৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১.৩ শতাংশ বেশি। ব্লুমবার্গ নিউজসহ একাধিক বিদেশি গণমাধ্যমের প্রবন্ধে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্যের শৃঙ্খলাকে ব্যাহত করছে। এই পরিস্থিতিতে চীনের বাণিজ্যের দৃঢ়তা বজায় রাখা সহজ ব্যাপার নয়।

মার্কিন শুল্কসহ একাধিক বাইরের চ্যালেঞ্জের মুখে চীনের বিদেশি বাণিজ্যের দৃঢ়তা বজায় থাকার কারণ কী? বিশেষজ্ঞ ওয়াং সিও সং সিএমজিকে জানান, এর কারণ হচ্ছে চীনের অর্থনীতির সুষ্ঠু অবস্থা, ব্যাপক বাজার এবং বিরাট সম্ভাবনা। বিশেষ করে চীনের শিল্প চেইন ও সরবরাহ চেইনের শক্তিশালী দৃঢ়তা এর অন্যতম কারণ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য সংরক্ষণবাদ বাড়ছে এবং ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে বিশ্বের উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনগুলোর স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে। চীন ইতিবাচকভাবে বাজার বহুমুখীকরণের মাধ্যমে শুধু বাণিজ্যিক অংশীদারদের উন্নয়নে অবদান রাখছে না, বরং নিজস্ব ঝুঁকি প্রতিরোধের সক্ষমতাও জোরদার করেছে।

এপ্রিল মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের উপর তথাকথিত ‘সমতুল্য ট্যারিফ’ আরোপ করেছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যকে আরও বেশি আঘাত হানছে। এর মোকাবিলায় চীন দৃঢ়ভাবে উন্মুক্তকরণ সম্প্রসারণসহ একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। সম্প্রতি পঞ্চম চীন আন্তর্জাতিক কনজিউমার গুডস মেলা ও ১৩৭তম ক্যান্টন মেলা আলাদাভাবে আয়োজিত হয়েছে। তাদের আকারসহ একাধিক ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ব্রাজিলের বিশেষজ্ঞ ক্লডিয়া ইয়ানুচ্চি মন্তব্য করেছেন, উন্মুক্ত চীন বিশ্বে আরও বেশি নিশ্চয়তা যুগিয়েছে।

যত বেশি চ্যালেঞ্জই থাকুক না কেন, চীনের বিদেশি বাণিজ্য দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববাসীও এখন আরও সুস্পষ্টভাবে বুঝতে পারছে যে, সংরক্ষণবাদ কোনোভাবেই সাফল্যের পথ নয়। কেবল উন্মুক্ততা ও সহযোগিতাই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বয়ে আনতে পারে।

সূত্র : আকাশ-তৌহিদ-ফেইফেই, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

Spread the love

Related posts

সিএমজি উন্মুক্ততা ও সভ্যতার সংলাপের একটি প্ল্যাটফর্ম : সিএমজি পরিচালক শেন হাইসিয়োং

চীনের অভিজ্ঞতা আজারবাইজানের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান : আলিয়েভ

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে রিটার্নের হার প্রায় ৯ শতাংশ

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments