বাংলাদেশে ভাস্কর্যের বিকাশ ও বিবিধ চর্চার ওপর আলোকপাত

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আজ ১০ জানুয়ারি (শুক্রবার) বিকাল ৩ টায় অনুষ্ঠিত হয় “ভাস্কর্য: আধুনিকতার প্রাথমিক পর্ব ও নভেরার উত্থান” আলোচনা অনুষ্ঠান। বাংলাদেশে ভাস্কর্যের বিকাশ ও বিবিধ চর্চার ওপর আলোকপাত করতে এ গবেষণাপত্র পাঠ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনের এই আয়োজনে আধুনিকতার নির্মাণে নভেরা আহমেদ-এর ভূমিকা এবং সমসাময়ীক ধারাসমূহের নানামুখী চর্চার একটি সার্ভে তুলে ধরা হয়।

বিকেল ৩ টায় প্রথম পর্বের আলোচনায় “ভাস্কর্য: আধুনিকতার প্রাথমিক পর্ব ও নভেরার উত্থান” মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাহিত্য পত্রিকা প্রতিধ্বনির সম্পাদক কবি ও লেখক সাখাওয়াত টিপু। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক ও গবেষক রেজাউল করিম সুমন এবং শিক্ষক, শিল্পী ও গবেষক দীপ্তি দত্ত। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন চারুকলা বিভাগের পরিচালক মোস্তফা জামান।

আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, “সংস্কৃতিগত এবং দর্শনগত আধুনিকতার মত অনেক দিক আছে , কিন্তু আমার কাছে সংস্কৃতিগত দিকটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ । ইউরোপে রেনেসা বিপ্লব, পরবর্তীতে শিল্প বিপ্লবসহ কিছু জায়গায় পলিটিক্যাল ডেমোক্রেসির মতো ওরা যেটা তৈরী করেছে সেটা উপনিবেশের মাধ্যমে আমাদের দেশে প্রবেশ করেছে। উপনিবেশবাদ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এটা ছাড়া চিন্তা করা যায় না এবং আমাদের দেশে আমরা যা পেয়েছি তা হলো ‘ভঙ্গুর আধুনিকতা’ বা ‘ফ্রাকচার মর্ডানিটি’। এই আধুনিকার সাথে ইউরোপের আধুনিকতাকে মেলানোর কিছু নেই।”

মহাপরিচালক, নাট্য নির্দেশক ও শিক্ষক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ আরো বলেন, “আমরা যেহেতু পরাধীন ছিলাম উপনিবেশের অংশ ছিলাম, সেহেতু আমাদের কাছে রবীন্দ্রনাথসহ যে কোন ইউরোপীয় ভাবনা আসুক না কেন তা ‘ভঙ্গুর আধুনিকতা’র অংশ। ভাস্কর নভেরা আহমেদ ষাটের দশকে যে প্রশ্ন তুলেছেন, যেভাবে কাজ করছেন, তার সাথে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আমরা আবার যে ইসলামের মুখোমুখি হচ্ছি, যেখানে মাজার কেন্দ্রিক অনেক ধ্যান ধারণা চালেঞ্জ করা হচ্ছে তখন আমরা সেই আধুনিকতার, ভঙ্গুর আধুনিকতার মুখোমুখি হচ্ছি। ফলে এটা খুব একটা জটিল পরিস্থিতি। সুতরাং যে সংকটগুলো- নভেরা, ২০২৫ সালের আধুনিকতার মুখোমুখি আমরা হচ্ছি, এই সংকটগুলো এখন যারা ভাস্কর, শিল্পী আছেন তারা কিভাবে মিমাংসা করবেন তা আমরা দেখতে চাই।”

২য় পর্ব ‘ভাস্কর্য: সাম্প্রতিক নির্মাণ ও বিনির্মাণ’ সন্ধ্যা ৬ টায় অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সভাপতি ভাস্কর ইমাম হোসেন (সুমন)। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রযোজনা বিভাগের পরিচালক আব্দুল হালিম চঞ্চল এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহিদুল হক।

Spread the love

Related posts

নদীর অবনতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

”ছোটগল্পের শিরোনাম-মিলা”

নাগরপুরে বিএনপি নেতা লাভলুর গণসংযোগ ও বই বিতরণ

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments