জুলাই ৮ (বুধবার) সকালে চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সামুদ্রিক আইনবিষয়ক গবেষণা ইনস্টিটিউট ‘ফিলিপাইনের দক্ষিণ চীন সাগরে আঞ্চলিক দাবির ঐতিহাসিক ও আইনি সমালোচনা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনের লক্ষ্য হলো ফিলিপাইন দক্ষিণ চীন সাগরে নিজের অংশ দাবি করছে, তা গৃহীত আন্তর্জাতিক আইনের নিয়মাবলী ও প্রকাশিত বিশ্বাসযোগ্য ঐতিহাসিক উপকরণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা এবং তার সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক দাবি আন্তর্জাতিক আইন মোতাবেক বৈধ কিনা- তা পরীক্ষা করা।
প্রতিবেদনে ফিলিপাইনের আঞ্চলিক সীমানা গঠনের ইতিহাস পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফিলিপাইনের স্থলভাগের আঞ্চলিক সীমানা স্পেন ও মার্কিন ঔপনিবেশিক আমলে ধীরে ধীরে গঠিত হয় এবং তিনটি আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনে প্রতিষ্ঠিত হয়, যাকে “আন্তর্জাতিক চুক্তিগত সীমারেখা” বলা হয়। ১৯৭০-এর দশক থেকে ফিলিপাইন বিভিন্ন ঘোষণাপত্র, রাষ্ট্রপতির আদেশ, সংবিধান সংশোধন ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন যুক্তিতে চীন-এর হুয়াংইয়ান দ্বীপ এবং স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের কিছু অংশ নিজেদের দাবি করে আসছে, এবং বারবার দাবি করছে যে- হুয়াংইয়ান দ্বীপ ও স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ ফিলিপাইনের নিকটবর্তী, যার মাধ্যমে তারা তাদের আঞ্চলিক দাবির যৌক্তিকতা ও বৈধতা প্রমাণ করতে চায়।
চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সামুদ্রিক আইনবিষয়ক গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক ঝাং হাইওয়েন বলেন, “যদি নিকটবর্তী হওয়াই ভিত্তি হয়, তাহলে সারা বিশ্বের শৃঙ্খলা এলোমেলো হয়ে যাবে এবং সব দেশের সীমান্তও বিশৃঙ্খল হবে। যেমন, ব্রিটিশ চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ—ব্রিটেনের কিছু দ্বীপ ইংলিশ চ্যানেলের ওপারে ফ্রান্সের উপকূলে অবস্থিত, আবার ফ্রান্সের কিছু দ্বীপ আটলান্টিক পেরিয়ে কানাডার উপকূলে অবস্থিত। ফিলিপাইনের এই যুক্তি অনুসারে, সারা বিশ্বের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। তাই এই যুক্তি অযৌক্তিক এবং কখনোই বাস্তবসম্মত নয়।”
প্রতিবেদনে উপসংহারে বলা হয়েছে, ফিলিপাইন আন্তর্জাতিক আইনগতভাবে কার্যকর বেশ কিছু চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত আঞ্চলিক সীমা অতিক্রম করে হুয়াংইয়ান দ্বীপ ও স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের কিছু অংশে তাদের সীমানা সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে—যার মৌলিক ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই এবং স্পষ্টতই আঞ্চলিক অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে, যা ঐতিহাসিক ও আইনি ভিত্তিহীন। ফিলিপাইনের এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বহুমুখী ক্ষতির কারণ হবে।
ঝাং হাইওয়েন আরও বলেন, “এর একটি ক্ষতি হলো এটি আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামো ও স্থিতিশীলতা ধ্বংস করবে এবং সমগ্র দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকেও বিঘ্নিত করবে। এই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় চীন অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে এবং পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তৃতীয়ত, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক আইনগত শৃঙ্খলাকেও ধ্বংস করে, কারণ দেশগুলোর মধ্যে বলপ্রয়োগ বা অবৈধ উপায়ে অন্যদের ভূখণ্ড দখল করা উচিত নয়। ফিলিপাইন তাদের এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সব আন্তর্জাতিক ঐকমত্য ভঙ্গ করেছে, তাই এর ক্ষতি অত্যন্ত গুরুতর।”
সূত্র:স্বর্ণা-তৌহিদ-লিলি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
