1. sohelbl02384@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@bulletinnews24.com : Bulletin News24 : Bulletin News24
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মশিউর রহমান হুমায়ুনের জন্মদিন উপলক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের বৃক্ষরোপণ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির আহবায়ক হুমায়ুন,সদস্য সচিব শাহ আলম যশোরে অসহায় হতদরিদ্রের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন জেলা পুলিশ যশোর ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকের উপর হামলা ঠাকুরগাঁও জেলায় হয়ে গেল ভ্রাম্যমাণ তথ্য মেলা যশোর কেশবপুর বিশ বছর পর পৌর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন কিশোরগঞ্জ ফুটবল একাডেমীর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে অটো চালক বাদশা মিয়া’র হত্যাকারীকে গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন পাবনার সুজানগরের ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয় ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ১৫ আগস্ট কালো রাতেরই অসমাপ্ত অধ্যায়!

  • আপডেট সময় শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০

বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশে জন্মেছি, মায়ের মুখে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করেছি। আর বাবার কাছে যখন নিষ্ঠুর ঘাতকচক্র কর্তৃক বঙ্গবন্ধুকে নিস্পাপ রাসেলসহ স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার কথাগুলো শুনতাম, তখন ভয়ঙ্কর নৃশংস কোন গল্পের মতো মনে হতো। বুকভাঙ্গা কষ্ট থেকে ঘাতকদের প্রতি জন্মাতো প্রচন্ড ঘৃণা। যখন বেড়ে উঠলাম তখন জানলাম- বুঝলাম, সে গল্প ছিল বাঙালি জাতির স্বপ্নভঙ্গের, জাতিকে পেছনে টেনে নেয়ার, জয় বাংলা স্লোগানকে রূদ্ধ করার, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সংবিধানকে ছিন্নভিন্ন করার আর বাংলাদেশ নামের মানচিত্র আর লাল সবুজের পতাকার জন্মদাতা – জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারানোর বিয়োগান্তক ইতিহাস।

(১০ ই অক্টোবর ২০১৮,গ্রেনেড হামলার রায় প্রচারের পর খুনি তারেকের ফাঁসি চাওয়ার মুহূর্ত)

পরবর্তীতে, শিক্ষাঙ্গনে, পাঠ্যপুস্তকে, গণমাধ্যমে পেলাম কেবল বিকৃত ইতিহাস। পেলাম ইনডেমনিটি নামের এক জঘন্য কালো আইন – ঘাতকেরা খুন করবে আর তাদের বিচার করা যাবেনা, খুনিদের পুরস্কৃত করতে বিদেশি দূতাবাসের চাকরি দেয়া ,- এ কেমন বিচারহীনতার সংস্কৃতি? পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থান করে দিয়ে জঙ্গিবাদের বীজ বপন করে দিলেন জেনারেল জিয়া। মনে মনে ভাবতাম বাবা-মা তো মিথ্যা বলেন না, তাহলে রাষ্ট্র কি মিথ্যা বলছে? কত কি প্রশ্ন মনে!

দীর্ঘ ২১ বছর জিয়া-এরশাদের সামরিক শাসন, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে জয় বাংলার স্লোগান, স্বাধীনতার প্রতীক নৌকা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিজয় হলো – গণতন্ত্রের মানস কন্যা বঙ্গবন্ধুর রক্ত ও আদর্শের উত্তরাধিকার জননেত্রী শেখ হাসিনা এলেন রাষ্ট্রক্ষমতায়। ইনডেমনিটি নামের কালো আইন বাতিল করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা বিরোধীদের বিচার
কার্যক্রম শুরু করলেন। কিন্তু না ২০০১ সালে দেশবিরোধী অপশক্তি তথা চারদলীয় জোটের নামে খালেদা জিয়া ফের রাষ্ট্রক্ষমতায়, এতে দেশবিরোধী অপশক্তির আঁতাত যেন আরও ঘনীভূত, শক্ত-পোক্ত হলো। ৭৫ এর সেই অসমাপ্ত অধ্যায়ের ইতি টানতেই যেন ২০০৪ সালের একুশ আগস্ট খুনি জিয়ার শাবক তারেক জিয়ার পরিকল্পনায় রাষ্ট্রীয় মদদে, বঙ্গবন্ধুর ঘাতক , বিএনপি-জামায়াত জঙ্গী মিলে সংগঠিত করলো বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের জঘন্যতম নারকীয় গ্রেনেড হামলা।

আল্লাহর রহমত, মানুষের দোয়া ও নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় জননেত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন কিন্তু আইভি রহমানসহ ২৪ জন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী অকালে প্রাণ হারালেন আর আমরা অনেকেই অক্ষত থাকলেও ৫ শতাধিক দলীয় নেতাকর্মী এসময় স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়ে এখনও বিভীষিকাময় জীবনযাপন করছেন। আবারও থমকে গেলো শুদ্ধ রাজনীতির ইতিহাস।আবারো সেই মিথ্যাচারের পুনরাবৃত্তি – আলামত নষ্ট করা, খুনিদের বিদেশে পালিয়ে যেতে সাহায্য করা, প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে জজ মিয়া নাটক — এগুলো এখন আর বাংলাদেশের জনগণের কাছে
অজানা নয়।

দীর্ঘ ১৪ বছর পাড়ি দিয়ে ১০ অক্টোবর ২০১৮, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারের রায় আমরা পেয়েছি।জাতি অনুধাবন করলো, বাংলাদেশ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে কিছুটা সরে আসলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দায় যেন মিটলোনা। আমরা হতবাক হয়েছি, সংক্ষুব্ধ হয়েছি। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা পরিকল্পনাকারী খুনি তারেকের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড না হওয়ায়। সেদিন আমরা যুব আইনজীবীদের কণ্ঠে ধ্বণিত হয়েছিল ,ফাঁসি -ফাঁসি- ফাঁসি চাই খুনি তারেকের ফাঁসি চাই।
তার মানে কি এটাই দাঁড়ায় ‘হইয়াও হইল না শেষ ‘—————-
এখন প্রশ্ন- দেশ বিরোধী অপশক্তি কি নিঃশেষ হয়ে গেছে? তাদের জঘণ্য বিকৃত মস্তিষ্ক কি শুদ্ধ হয়ে গেছে? বিগত দিনে খুনি মোশতাকের সাথে যারা আঁতাত করেছিল তারা কি চিহ্নিত হয়েছিলো নাকি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির মাঝে স্থান করে নিয়েছে! যদি বলি- জিন্দাবাদের স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিগুলো খোলস পাল্টে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনীতির মাঝে অনুপ্রবেশ করে গেছে ! আবার অনেকে রাষ্ট্রযন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হয়ে গেছে! এরা কি বিষফোঁড়া হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পীড়া দিচ্ছে না ? বঙ্গবন্ধুর ঘাতক আর খুনি জিয়ার মতাদর্শের ধারক ও বাহক যারা ,তারা কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সংবিধানের বাংলাদেশকে মেনে নিতে পেরেছে! নাকি ঘাপটি মেরে আবারো কোন এক নৃশংসতার অপেক্ষায় প্রস্তুত হচ্ছে আর দিন গুনছে ???
৭৫ এর পনের আগস্ট এবং ২০০৪ এর একুশে আগস্টের জঘণ্যতম হত্যাকাণ্ড — শুধু রাজনৈতিক হত্যাকান্ডই নয় বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের দার্শনিক এবং আদর্শিক হত্যাকাণ্ড -যা সততা, সহনশীলতা ও আদর্শ বিবর্জিত সংগ্রামহীন প্রতিক্রিয়াশীল অরাজনৈতিক চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। এখন সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেয়ার, এখন সময় এসেছে পক্ষ নেওয়ার।বাংলার জনগন — মিথ্যার উপর ভর করে দাঁড়িয়ে থাকা প্রগতির বিপক্ষের অপশক্তির পক্ষ নেবে , নাকি তাদের চিহ্নিত এবং প্রতিহত করে প্রগতির পক্ষে অগ্রযাত্রার বাংলাদেশকে সমুন্নত রাখবে ?

আমরা ৭৫ পরবর্তী প্রজন্ম যারা মহান মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি ,খুঁজে ফিরেছি বঙ্গবন্ধুর ধমনীর রক্তের, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর আদর্শের ,যে আদর্শ আর দেশপ্রেম খুঁজে পেয়েছি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার মাঝে। আমরা চাই জঙ্গিবাদ ও দেশবিরোধী অপশক্তির নিপাত, আর ঠিক তার বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঐক্যতান। আর এজন্যই বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া দর্শন ও আদর্শ বুকে ধারণ করে তারই রাজনৈতিক ও আদর্শের উত্তরাধিকার বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনার অদম্য বাংলাদেশের সারথি হবো আমরা এ প্রজন্ম এবং আগামী প্রজন্ম।

লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুর্প্রীম কোর্ট।

সাবেক সদস্য, আইন বিষয়ক উপকমিটি,

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 bulletinnews24.com
Theme Download From ThemesBazar.Com