1. sohelbl02384@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@bulletinnews24.com : Bulletin News24 : Bulletin News24
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্রান্সে মহানবী সাঃ এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে মাইজখাপনে যুবসমাজের বিক্ষোভ ফ্রান্সে মহানবী সাঃ এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে ইমাম ও উলামা পরিষদের উদ্যোগে বিক্ষোভ নওগাঁ-০৬ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন হেলালের শপথ গ্রহণ মাস্ক ব্যবহার করে চিকিৎসা সেবা করুন – স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক পদ্মা নদিতে ইলিশ রক্ষায় হেলিকপ্টার নিয়ে অভিযান রাসূল(সঃ)কে নিয়ে ফ্রান্সে ব্যাঙ্গ চিত্র ও কটুক্তি করায় স্বাধীনতা ঐক্য ফাউন্ডেশনের মানববন্ধন ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫ হাজার পিছ ইয়াবা ও ১০৩ টি মোবাইল সিম সহ ১ জন গ্রেফতার কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের ৫৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত নওগাঁর ধামইরহাটে রাসায়নিক স্প্রে করে কৃষকের ধান পুড়িয়ে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা করিমগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত নাহিদ হাসান সুমন কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক নির্বাচিত

অনলাইন ভর্তি পরীক্ষাঃ আবারো গ্রামের কৃষকের সন্তানদের বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা!

  • আপডেট সময় শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০

প্রথমেই বলে নেই আমি খুব করেই চাই আমাদের দেশের প্রতিটি সেক্টর ও সেবা খাতে ডিজিটালাইজেশন হোক। উন্নত দেশের মতো দেশের মানুষ সকল সুবিধা ঘরে বসে হাতের নাগালে পাক। সকল ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে আমি।

কিন্তু যে মুর্হুতে আমি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হয়েও এখনো আমার বিভাগের অনলাইন ক্লাশগুলো করতে পারছি না নিরবিচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক প্রবাহের অভাবে, ভালো একটি ডিভাইসের অভাব ও ডাটা কেনার অর্থের অভাব আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত, সেই সময়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার মতো একটি মহাযজ্ঞ অনলাইনে করার যৌক্তিকতা কতটুকু?

বিশেষত আমার যে ছোট ভাইয়ের হাতে এইচএসসি পাস করার আগ পর্যন্ত মোবাইল ফোনই দেইনি, সে তো এখন আতঙ্কে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য!

গ্রামের কৃষকের অধিকাংশ মেধাবী গরীব সন্তানরা এইচএসসির আগে স্মার্টফোন দুরের কথা একটি সাধারণ ফোনও ব্যবহার করার সামর্থ্য রাখে না। অথচ খোজ নিলে দেখা যাবে বিগত বছরগুলোতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অধিকাংশ শিক্ষার্থীই গ্রামের মফস্বলের সন্তান! তাঁদের অনেকেই ক্ষেতে খামারে কাজ করে জিপিএ-৫ পেয়ে বুয়েট-ঢাবিতে পড়ে। বৃষ্টি এলে ভাঙ্গাচালা দিয়ে পানি পড়ে অনেকেরই বিছানা-বইপুস্তক ভিজে একাকার হতো। সন্ধ্যার পরে পড়ার মতো আলোও হয়তো অনেকের ঘরে ছিল না।

এই সময়ে যখন একটি এইচএসসি পরীক্ষাই অনুষ্ঠিত হলো না তখন গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভরসা ছিল একটি গ্রহণযোগ্য ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যার মাধ্যমে তারা মেধার বিকাশ ঘটাতে পারে।

এই মুহুর্তে যখন ব্যবসার জন্য সিনেমা হল পর্যন্ত খুলে দেয়া হলো, সেই হলে আবার শিক্ষার্থীরাই অধিকাংশ দর্শক, সেই সময়ে পাবলিক ভার্সিটির উপাচার্য গণ করোনার ভয়ে জাতির বহুল কাঙ্ক্ষিত একটি কাজ সম্পূর্ণ নতুন, অজ্ঞাত ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি পদ্ধতিতে করার প্রস্তাব করেছেন। অথচ ইতিপূর্বে দেশে কোন ভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষাই এই পদ্ধতিতে নিয়ে খুটিনাটিও যাচাই করা হয়নি। অথচ এখানে সামান্য হেরফের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

করোনা আমাদের প্রযুক্তির দিকে ধাবিত করছে এটা বাস্তবতা। সেজন্য পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া সব ভার্সিটি মিলে সমন্বিত ভাবে এমন একটি কাজে নামা কতটুকু বাস্তবিক। অথচ এতদিন পর্যন্ত ভার্সিটিগুলো সবাই মিলে একটা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিতেই রাজি হয়নি!

সফটওয়্যারে পরীক্ষা নিতে গেলে একজন শিক্ষার্থীকে একটি রুমে একাকী বসে, ল্যাপটপ বা অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ডাটা সংযোগ রেখে নিজে নিজে অ্যাপে লগইন করে তারপর এক-দেড় ঘন্টায় পরীক্ষা দিতে হবে। প্রশ্নের উত্তরগুলো হয়তো টিকমার্ক করতে হবে। একটা নির্ধারিত সময়ে লগইন করে নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হবে এবং এই সময় পরে উত্তরগুলো জমা হয়ে যাবে। এই সময়ে ওয়েবক্যামে তার কর্মকাণ্ড ধারণ করা হবে।

গ্রামের গরীব কৃষকের মেধাবী সন্তানদের পক্ষে কি এই মুহুর্তে এই ধরণের প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার বাস্তবতা ও সামর্থ্য আছে? যে সকল সম্মানিত উপাচার্য মহোদয়গণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকগণ কৃষকের সন্তান ছিলেন তাঁদের বিবেকের প্রতি প্রশ্ন রইল।

বরং পরিস্থিতির একটু উন্নতি হলে গুচ্ছাকারে সবগুলো ভার্সিটি মিলে সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে, নানা বিধি নিষেধ আরোপ করে স্বল্প সময়ে একটি ভর্তি পরীক্ষা নিলেই বরং এইচএসসি না হওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে সকলের প্রতি সুবিচার করা হবে।

লেখক:
আল-আমিন গাজী, শিক্ষার্থী, ঢাবি

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 bulletinnews24.com
Theme Download From ThemesBazar.Com