1. sohelbl02384@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@bulletinnews24.com : Bulletin News24 : Bulletin News24
শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
কিশোরগঞ্জে শীতের আগমনে লেপ-তোশক তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা রাণীশংকৈলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ব্যবসায়ী আটক “দৈনিক তৃতীয় মাত্রা” পত্রিকায় মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ পেলেন রাজিবুল ইসলাম উলিপুরে ফেনসিডিলসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার “বুলেটিন নিউজ ২৪” পত্রিকায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তরুণ সাংবাদিক সাইমন হোসেন কে বালিয়াডাঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি কে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি বালিয়াডাঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ আহত ২ কুড়িগ্রামে শ্রী রামকৃঞ্চ আশ্রমের মন্দিরের কাজ উদ্বোধন পাবনায় মরহুম আবুল কাশেম মাস্টারের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন “মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের” নেতৃবৃন্দ ঠাকুরগাঁওয়ে অবৈধভাবে সরকারি গাছ কাঁটার অভিযোগ

ভাস্কর্য বিতর্ক ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ!

  • আপডেট সময় রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০

বাংলাদেশ ৪টি মূল স্তম্ভকে আঁকড়ে ধরে পরিচালিত হয়। শুধু পরিচালিত হয় বললে ভুল হবে এদেশের মানুষের রাষ্ট্রীয় নীতি আদর্শের মাপকাঠি পরিগণিত হয় ৪টি মূলমন্ত্র দ্বারা তা হলো – ১) গণতন্ত্র ২)সমাজতন্ত্র ৩) ধর্মনিরপেক্ষতা ও ৪) জাতীয়তাবাদ।

গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র কি আমরা অনেকেই এ বিষয়ে কমবেশি ধারণা রাখি, ধর্মনিরপেক্ষতার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা কিছুটা সেরকমই। কিন্তু জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে আমাদের সাম্যক জ্ঞান গরিমার বিন্যাস নিয়ে যে ঘাটতি রয়েছে তা নিয়ে প্রখ্যাত রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারক ও চিন্তাবিদরা মোটেও শংকামুক্ত নন।

এইতো কিছুদিন আগে ভারতে চীনা পণ্য বয়কটের আন্দোলন যখন শুরু হলো তখন চীন আন্দোলনের জন্য প্রয়োজনীয় “বয়কট চায়না” লেখা সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, টি শার্ট ও ক্যাপ পর্যন্ত ভারতে রপ্তানি করেছিল। ঠিক একই ব্যাপারটা বাংলাদেশে ঘটলে সম্ভবত সরকার বিরোধী প্রপাগাণ্ডা শুধু নয়, দেশদ্রোহী হিসেবে ক্ষমতাসীন সরকার ব্যাবস্থাকে আখ্যায়িত করা হতো সেটা যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন!

বস্তুত চীনের দিকে একবার খেয়াল করুন তারা তাদের অর্থনীতিকে আলাদা একটি স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, তাদের দেশের অর্থনীতি নিজ গতিতে চলে। এটার সাথে তাদের জাতি রাষ্ট্রের আত্মিক বন্ধন তারা খুঁজতে যায় না।অর্থনীতির গতির লাগাম তারা কখনোই টেনে ধরে না, কেননা তারা জানে যে জাতীয়তাবাদ আসলে মূলত কোনটি। আসুন তাদের জাতীয়তাবাদের জায়গাটি এবার দেখে আসি। চীনারা কখনও মান্দারিন ভাষা ছাড়া ইংরেজিতে কথা বলেনা। ইংরেজি শিখতেও তাদের অনীহা। বহির্বিশ্বে তারা দোভাষী ব্যবহার করে যোগাযোগ স্থাপন করে থাকে। ভাষা,খাদ্যাভ্যাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্পকে দেশীয় আত্মচেতনার সাথে এবং দেশ ও জাতিরাষ্ট্রের চেতনার সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়েই জন্ম নেয় দেশীয় জাতীয়তাবাদ।

কার্যত বাংলাদেশ একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের জন্য মাদরাসা শিক্ষা ব্যাবস্থা থেকে শুরু করে ধর্মীয় অনুরাগের জায়গাগুলোতে ধর্মীয় রীতি রেওয়াজ চর্চার জন্য মুক্ত চেতনার চারণভূমি হিসেবে এদেশের ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে বহির্বিশ্বে।

অপরপক্ষে একটি দেশের নিজস্ব স্বকীয় সংস্কৃতি থাকে, নিজ জাতিরাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের ইতিহাস থাকে, নিজ জাতির সাথে জড়িত দুর্বার প্রতাপশালী ঐতিহ্যিক গুরুত্ব সে দেশের জাতীয়তাবাদকে দৃঢ় করে। দেশের এই কৃষ্টি কালচারকে জনমনের জনজীবনে প্রতিফলিত করতে পারলেই কেবল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জাতীয়তাবাদের ভিত্তি ইস্পাত-দৃঢ় হয়। সেদিক থেকে উজ্জ্বল একটি দৃষ্টান্ত ধরা যেতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গঠনের পুরোধা হিসেবে এবং তাদের জাতির পিতা হিসেবে পরিগণিত হয় তাদের প্রথম রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীর নামও জর্জ ওয়াশিংটনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাখা হয় ওয়াশিংটন ডিসি।দেশজুড়ে জর্জ ওয়াশিংটন এবং তাদের জনজীবনের সংগ্রামকে নিয়ে তৈরী হয়েছে অগণিত মনুমেন্ট। মার্কিনীদের জাতীয়তাবাদের ভিত্তি তারা সেই দু’শ বছর আগেই গেড়ে রেখেছে যার ফলাফল আজ তারা পাচ্ছে।

এখন কথা উঠতে পারে আমরা পশ্চিমা বিশ্বকে কেন দৃষ্টান্ত হিসেবে মানবো! আমরা পশ্চিমা সংস্কৃতির কোন দেশ নই আমরা প্রাচ্যের সভ্যতায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিক।

সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষের শিল্পকর্মের প্রতি আলাদা একটা ঝোঁক লক্ষণীয়।প্রতিটি দেশ ভাস্কর্য কিংবা সৃষ্টিশীল স্থাপত্যকর্মের মধ্য দিয়ে নিজ নিজ অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে সৌদি আরবও এর ব্যতিক্রম নয়। আসুন তাহলে মুসলিম বিশ্বের মোড়ল সৌদি আরবের দিকে তাকাই, সৌদি আরবের জেদ্দাতে রয়েছে বিখ্যাত উটের ভাস্কর্য, রয়েছে মানব চোখ, হাত,ঘোড়ার ও গাংচিলের ভাস্কর্য। তারা এসব ভাস্কর্য দ্বারা তাদের জাতিগত ঐতিহ্যিক অঙ্গীকারের প্রতি প্রতীকী দেশপ্রেম পোষণ করে। কিন্তু কেউ এসব ভাস্কর্য কে শুধুমাত্র একটি প্রতীক ছাড়া অন্য কিছু ভাবেন না, পুজো বা উপাসনা করার বিষয় তো দূরেই থাক।

বাংলাদেশে সম্প্রতি ভাস্কর্য নিয়ে রীতিমতো যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে তা জাতিগতভাবে আমাদের দূর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। আমরা কেউই এসব ভাস্কর্যকে উপাসনা বা পুজো করার নিমিত্তে আবলোকন করিনা। ঠিক এমনই একটা বিভেদ পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়েও আমাদের মাঝে রয়েছে, সেখানে পেঁচা ব্যবহারকে কেন্দ্র করে একধরনের বিতর্কের সৃষ্টি করে এক শ্রেণীর মানুষ। এখানে আবারও বলতে হয় এটিকে আমরা ধর্মীয় কোন দৃষ্টি থেকে দেখি না, পেঁচা গ্রাম বাংলার আবহমান দৈনন্দিন জীবনের সাক্ষী সেজন্যেই আমাদের প্রতিনিয়ত গ্রামবাংলার প্রবাহমান জীবনধারাকে স্মরণ করতে আমরা পেঁচার প্রতিকৃতি বৈশাখে ব্যাবহার করি। ঠিক যেমনটা সৌদি আরবের মানুষ তাদের নিয়মিত পথচলায় তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে উটের উপস্থিতি খুঁজে পায় বলে উটের ভাস্কর্য নির্মাণ করে তাদের জাতিগত ইতিহাসকে প্রতীকীভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

আবার একটু চীনের প্রসঙ্গে আসা যাক চীন যেমন তাদের সংবিধানের প্রতিটি স্তম্ভকে একটি স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, একটি মুক্ত বর্ধনশীলতা দিয়েছে আবার এটার সাথে জাতীয়তাবাদের সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও তারা জানে যে জাতিগত লাগামটা ঠিক কোথায় টেনে ধরতে হয়।এসব কারণেই হয়তো এখন চীন আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার দোরগোড়ায় রয়েছে।

শেষকথা বলতে গেলে এটাই বলতে হয় যে, আমরা যদি অর্থনীতিকে অর্থনীতির জায়গায় থাকতে দেই, সামাজিক অবকাঠামোকে সামাজিক বলয়ের আরাধোনায় বেড়ে উঠতে দেই আবার ধর্মীয় চিন্তাচেতনার জায়গাটাকে ধমীয় জায়গায় স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনভাবে রাখি এবং এসব ক্ষেত্রে দেশ ও জাতি রাষ্ট্রের ব্যবস্থাকে জড়িয়ে না ফেলি আমার মনে হয় আমরা আরও দূর্বার গতিতে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারবো। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদের শেকড় গেড়ে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ বিনির্মাণের চাকা আরও বেগবান করতে তারুণ্যকেই সমাজ সংকল্পের বাস্তবতায় এগিয়ে আসতে হবে।

আশিক অমি, শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, উপ-দপ্তর সম্পাদক, স্লোগান ৭১

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 bulletinnews24.com
Theme Download From ThemesBazar.Com