গণকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা সি চিন পিংয়ের

“পরিবার, মানুষ ও কর্মজীবনের সমৃদ্ধি হোক; ভাগ্য, সম্পদ ও সৌভাগ্যের প্রসার হোক” গত ২৪ জুন, সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, চীনের প্রেসিডেন্ট এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান সি চিন পিং শানতুং প্রদেশের সি ইউ চিয়া গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। গ্রামটির বাসিন্দাদের বাড়ির দরজার দু’পাশে লাগানো বসন্ত উৎসবের শ্লোক-এ লেখা ছিল—”পরিবার, মানুষ ও কর্মজীবনের সমৃদ্ধি হোক; ভাগ্য, সম্পদ ও সৌভাগ্যের প্রসার হোক।” চীনা ভাষায় লেখা এই বাক্যটি সাধারণ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি বলেন, এটি হলো “জনগণের মনের সুন্দর প্রত্যাশা”।

তিনি সবাইকে বলেন, গত ১০৫ বছরে সিপিসি দেশের আপামর জনগণকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে এবং সবার নিরলস প্রচেষ্টায় মহান সাফল্য অর্জিত হয়েছে বা হচ্ছে। বর্তমানে আমরা সার্বিকভাবে একটি সমাজতান্ত্রিক আধুনিক দেশ নির্মাণের নতুন অগ্রযাত্রায় দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে এই নতুন অগ্রযাত্রায় সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া, আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সৃষ্টি করা এবং সুন্দর জীবনের প্রতি জনগণের মনের আকাঙ্ক্ষা অব্যাহতভাবে পূরণ করা।

তিনি আরও জানান, সিপিসি জনগণ থেকে এসেছে এবং জনগণের জন্যই এর জন্ম হয়েছে। জনগণের কারণেই সিপিসি সমৃদ্ধি লাভ করেছে, সিপিসি সবসময় জনগণের সাথে রয়েছে, জনগণের সাথে একযোগে সব কঠিন সময় অতিক্রম করেছে এবং জনগণের সাথে একযোগে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অতীতের পথচলায় সিপিসি যেমন জনগণের ওপর নির্ভর করে কাজ করে এসেছে, ভবিষ্যতেও আগের মতোই জনগণের ওপর নির্ভর করে সিপিসি নতুন ঐতিহাসিক সাফল্য সৃষ্টি করবে।

মন দিয়ে গণকল্যাণ বৃদ্ধিতে কাজ করা:২০১৭ সালের অক্টোবরে, সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং গোটা পার্টিকে “প্রাথমিক লক্ষ্য কখনো ভুলে যেও না, মিশন মনে রাখো এবং চিরকাল সংগ্রাম করো”—এই মহান দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

সিপিসি সদস্যদের প্রাথমিক লক্ষ্য ও মিশন হচ্ছে চীনা জনগণের সুখ ও চীনা জাতির পুনরুজ্জীবন বাস্তবায়ন করা। জন্মের পর থেকে সিপিসি ‘জনগণ’ শব্দটিকে তাদের পতাকায় লিখে রেখেছে এবং নিজেদের রক্তে মিশিয়ে নিয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং জোর দিয়ে জানান, কোনো সময়েই আমরা আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ভুলে যেতে পারব না, সবসময় মিশনটিকে মনে রাখতে হবে। জনগণই যে আমাদের মূল শেকড়, তা ভুলে যাওয়া চলবে না; চিরকাল জনগণকে সেবা প্রদান করতে হবে। সমৃদ্ধির স্বপ্ন, শক্তিশালী দেশের স্বপ্ন এবং চীনা স্বপ্ন—এসবের মূল বিষয়ই হচ্ছে জনসাধারণের সুখের স্বপ্ন। সিপিসি যেসব প্রচেষ্টা চালিয়েছে বা চালাবে, তার সবকিছুর উদ্দেশ্য হলো জনগণের সুখ অন্বেষণ করা।

নতুন যুগে, কমরেড সি চিন পিংকে কেন্দ্র করে গঠিত সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটি সুন্দর জীবনের প্রতি জনগণের নতুন প্রত্যাশা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। তারা গণকল্যাণ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং মানুষের সার্বিক উন্নয়ন ও গোটা জনগণের অভিন্ন সমৃদ্ধি বাস্তবায়নে কাজ করে আসছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু যত্ন, বয়স্কদের যত্ন, আবাসন এবং পরিবেশসহ জনসাধারণের প্রাত্যহিক জীবন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে দেশের উন্নয়নের শীর্ষ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে জনগণের সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য অব্যাহতভাবে উন্নত হচ্ছে।

সি চিন পিং জানান, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে জনসাধারণের আরও সুন্দর জীবনের প্রত্যাশা পূরণ করা।” জনগণের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা, জনগণকে মনে রাখা এবং জনগণের জন্য কাজ করার মাধ্যমে নতুন যুগে সিপিসি’র সদস্যরা গণকল্যাণ বৃদ্ধিতে বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে জনগণের প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসা ফুটে উঠেছে।

সূত্র:আকাশ-তৌহিদ-শিশির,চায়না মিডিয়া গ্রুপ

Spread the love

Related posts

বন্যা ও খরা ত্রাণে দায়িত্বশীল সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের ভূমিকা বাড়ানোর তাগিদ

পাঁচ দিনের উৎসবে শেষ হলো শাংহাই সিনেমা মহাযজ্ঞ

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments