গোবি মরুভূমি থেকে সবুজ আবাসভূমি—নৃত্যনাট্যে খ্যখিয়ার অনুপ্রেরণার গল্প

বেইজিংয়ে মঞ্চস্থ হলো মৌলিক সংগীত ও নৃত্যনাট্য ‘দ্য স্প্রিং উইন্ড গ্রিনস খ্যখিয়া’ বসন্তের বাতাস । এক অনন্য ও প্রাণবন্ত নাট্য-অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এই প্রযোজনায় সিনচিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের আকসু প্রিফেকচারের একসময়ের রুক্ষ ও ধূসর খ্যখিয়া এলাকাকে কীভাবে একটি সমৃদ্ধ সবুজ মরূদ্যানে রূপান্তর করা হয়েছে—সেই চার দশকের অসাধারণ পরিবর্তনের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।
দুটি কাল্পনিক চরিত্রের মধ্যকার হৃদয়স্পর্শী ও সময়-বিস্তৃত কথোপকথনের মধ্য দিয়ে নাটকটি এগিয়ে চলে। তাদের আলোচনার সূত্র ধরে দর্শকরা আশির দশকের শুরুর দিকের সেই সময়ে ফিরে যান, যখন আকসুর কাছে বাতাস-তাড়িত এক রুক্ষ ভূখণ্ডে খ্যখিয়া বনায়ন প্রকল্প শুরু হয়েছিল।

নাটকটির মূল উপজীব্য হলো বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সেই গল্প, যারা গাছ লাগানো এবং কঠোর গোবি মরুভূমির প্রতিকূল পরিবেশকে জয় করে তাকে বাসযোগ্য করে তোলার কাজে নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন।
চল্লিশ বছর ধরে আকসুর বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষ তীব্র বাতাস, উড়ন্ত বালু এবং চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করে এমন সব বনভূমি গড়ে তুলেছেন, যেখানে একসময় কেবল রুক্ষ জমিই ছিল। তাদের অদম্য মনোবল মরুভূমিকে এক সমৃদ্ধ সবুজ ভূমিতে রূপান্তরিত করেছে; গড়ে তুলেছে এক সুন্দর ও অধিকতর সমৃদ্ধ আবাসস্থল, যা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সম্মিলিত নিবাস।

ছয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত এই পরিবেশনায় জাতিগত নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, মৌলিক সংগীত এবং অত্যাধুনিক মাল্টিমিডিয়া মঞ্চ প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। মরুভূমি নিয়ন্ত্রণ, জলপ্রবাহের দিক পরিবর্তন, মাটির গুণমান উন্নয়ন, ফল শিল্পের বিকাশ এবং পরিবেশগত পুনরুদ্ধারের এক হৃদয়স্পর্শী চিত্র এই প্রযোজনায় ফুটে উঠেছে।
প্রযোজনাটির নির্দেশনায় রয়েছেন ছেন চিয়ানিয়ান, যিনি একজন প্রখ্যাত ব্যালে প্রশিক্ষক এবং সাংহাই থিয়েটার একাডেমির নৃত্য বিভাগের শিল্প পরিচালক। তাঁর আন্তর্জাতিক শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি নাটকটির কাহিনি-বিন্যাস, দৃশ্য-উপস্থাপনা এবং পরিবেশনার ছন্দে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। এর চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখেছেন চিত্রনাট্যকার ওয়েই রুই এবং আকসুর নাট্যকার ইউয়ান কাংলিয়াং।
পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও পরিমার্জন—সব মিলিয়ে এই প্রযোজনাটি প্রস্তুত করতে দুই বছর সময় লেগেছে। এটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আকসুতে প্রথম মঞ্চস্থ হয় এবং এরপর থেকে সিনচিয়াং ও চীনের অন্যান্য শহরে ২০টিরও বেশি প্রদর্শনী হয়েছে।

মাহমুদ হাশিম,
সিএমজি বাংলা।

Spread the love

Related posts

ইইউ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে গতি চীনের

প্যারাগুয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান, সাইবার হামলা দমনে অঙ্গীকার চীনের

বেইজিংয়ে জলাধার পরিদর্শনে উপ-প্রধানমন্ত্রী, বন্যা প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments