মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ভূমিকাকে স্বাগত চীনের

২৫মে (সোমবার) বিকেলে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ের গণ-মহাভবনে চীন সফরে আসা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এক আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন।

বৈঠকে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উল্লেখ করেন, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের দীর্ঘ ৭৫ বছরে দুই দেশ সর্বদা একে অপরকে অনুধাবন করেছে, পরস্পরের প্রতি আস্থা রেখেছে এবং পারস্পরিক সমর্থন জুগিয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি অটুট ও অবিচ্ছেদ্য ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত পারস্পরিক আস্থা ও বাস্তবমুখী সহযোগিতা উভয় দেশের জাতীয় উন্নয়নে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেভাবে ও যতটুকুই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন সর্বদা পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নকে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কূটনীতির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের উচিত নতুন যুগে আরও ঘনিষ্ঠ চীন-পাকিস্তান অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গড়ে তোলার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা। এর মাধ্যমে দুই দেশের সর্বাবস্থায় কার্যকর কৌশলগত সহযোগিতাকে আরও সমৃদ্ধ করা, যা উভয় দেশের জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে এবং একটি প্রতিবেশী ভাগ করা ভবিষ্যতের কমিউনিটি গঠনে উদাহরণ সৃষ্টি করবে।

সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, চীন সর্বদা পাকিস্তানের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার বিষয়টিকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। চীন পাকিস্তানের সাথে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বিনিময় বজায় রাখতে, কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার করতে এবং দুই দেশের সম্পর্কের সঠিক অভিমুখ ধরে রাখতে চায়। দুই পক্ষকে চীন-পাকিস্তান বড় বড় মেগা প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি “ছোট অথচ সুন্দর” ও সরাসরি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ সুচারুভাবে এগিয়ে নিতে হবে। কৃষি, শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো সর্বাত্মক খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করতে হবে।

সি চিন পিং আরও বলেন, নিরাপত্তা খাতে আরও উচ্চ স্তরের এবং বিস্তৃত সহযোগিতার মাধ্যমে যৌথভাবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হবে। চীন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য পাকিস্তানের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ এবং তাদের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাকে অত্যন্ত প্রশংসার সঙ্গে স্বাগত জানায়। উভয় পক্ষকে আগামী দিনেও নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে, একতরফাবাদ ও স্নায়ুযুদ্ধের চিন্তাধারাকে যৌথ বিরোধিতা করতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে একটি সমতাভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল বহুমুখী বিশ্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন এগিয়ে নিতে হবে।

পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং কেবল পাকিস্তানের জনগণেরই এক মহান বন্ধু নন, বরং সারা বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষের এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা ও বন্ধু। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের দূরদর্শী নেতৃত্বে চীনের অর্থনীতি বিশ্বজুড়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে, যা বিশ্ব শান্তি রক্ষা এবং একটি বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক মজবুত নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। পাকিস্তান দৃঢ়ভাবে একচীন নীতি মেনে চলে এবং চীনের মূল স্বার্থের সাথে জড়িত সব ইস্যুতে সর্বদা চীনের অবস্থানকে নিঃশর্ত সমর্থন করে। পাকিস্তান চিরকাল চীনের বিশ্বস্ত বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকী যৌথভাবে উদযাপন করতে, চীনের দেশ পরিচালনার সফল অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে, বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের সহযোগিতা গভীর করতে এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের নির্মাণকাজ আরও এগিয়ে নিতে অত্যন্ত আগ্রহী।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য তিনি চীনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শাহবাজ শরীফ উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উত্থাপিত চার দফা প্রস্তাবনা এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি অত্যন্ত কার্যকরী ও দিকনির্দেশনামূলক সমাধান। পাকিস্তান বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে চীনের সঙ্গে আগামী দিনেও নিবিড় সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সূত্র:শুয়েই-তৌহিদ-জিনিয়া,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

Spread the love

Related posts

গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নে চীনকে শক্তিশালী কণ্ঠস্বর বললেন ইউনেস্কো প্রধান

আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ জোরদারে চীনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন এপেকে

চীন-সার্বিয়া সম্পর্কের কৌশলগত গভীরতা ফুটে উঠল বেলগ্রেডের অনুষ্ঠানে

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments